Wednesday, May 13, 2015

Post 27: Kadombori - chhobi

কাদম্বরী দেখলাম কিছুদিন আগে আনন্দবাজারে কাদম্বরী ছবির প্রিভিউ হিসাবে রবি ঠাকুরেরবৌদিবাজিনিয়ে একটি ফিচার বেরিয়েছিল সেখানেবৌদিবাজিশব্দবন্ধ তে আমার তীব্র আপত্তি ছিল আনন্দবাজারের সস্তা পাবলিসিটির জন্যবৌদিবাজিজাতীয় শব্দবন্ধ ব্যবহার একটি বিরক্তির উদ্রেক করেছিল আমার মনে মনে হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ স্তরের শিল্পী তথা দার্শনিকের ব্যক্তিগত জীবনের সম্পর্কের নামকরণের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়া উচিত
কাদম্বরী দেখলাম বাস্তবিকই তাই দাঁড়ালো, থুড়ি, বলা ভালো দাঁড় করানো হল
কালকেই পিকু এবং বেলাশেষে বিষয়ক পোস্টটি পড়ে কোলকাতার একজন বিখ্যাত শিল্পী আমায় একটি মেসেজ করেন তাতে তিনি বলেন যে আজকাল সবাই পরিচালক হয়ে যাওয়ার দরুন, সিনেমার স্বীয় ভাষা ধীরে ধীরে লোপ পেয়ে যাচ্ছে তার জায়গায় কিভাবে সহজে লোক টানা যাবে তার প্রতিযোগিতা বাস্তবিকই তাই কাল অমিতাভ বচ্চনের জোর করে বাঙলা বলা যেমন বিরক্তির উদ্রেক করছিল, ঠিক তেমন ভাবেই আজকের রবীন্দ্রনাথ, কাদম্বরী, জ্যোতি দাদা, সুমন ঘোষ সবাই মিলে বিরক্ত করে গেলেন গোটা সিনেমা জুড়ে
পরিচালক হিসাবে সুমন ঘোষের প্রতি আমার প্রথম আপত্তি এই যে, তিনি স্ক্রিপ্টটি কপি পেস্ট না করে নিজে হাতে লিখলে ভালো করতেন। গোটা ছবিটি দেখে মনে হল, প্রথম আলো আর কবির বৌঠানের পাতা কেটেছেন আর সেঁটেছেন। তাও যদি সাজানোটা ঠিক হত! ইতিহাস যতদূর বলে, চন্দননগরের মোরান সাহেবের বাড়ি ছাড়ার পর সদর স্ট্রীটের বাড়িতে থাকার সময়নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গলেখেন রবীন্দ্রনাথ। সদর স্ট্রীটের বাড়ির ফলকও সেই কথা জানায় আমাদের। এক্ষেত্রে দেখলাম, চন্দননগর যাওয়ার আগে জোড়াসাঁকোর বাড়িতেই লিখে ফেললেন তিনি। লিখলেন বেশ, কিন্তু পরমব্রতর নরম গলার আবৃতি শুনে কাদম্বরী এত উতলা হয়ে প্রথম আলোর সংলাপ আউড়ে গেলেন কেন, তাও জানিনা – “তোমার আজ কী হয়েছে, রবি?”
গোটা ছবি জুড়ে একটাও চরিত্র নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারল না। মানছি যে ঠাকুরবাড়ির বিশাল পরিবারের অগুন্তি সদস্যদের সকলকে এই দেড় ঘন্টা সময়ে চরিত্রায়িত করা সম্ভবপর নয়, কিন্তু প্রধান তিনটি চরিত্র? জ্যোতিরিন্দ্রনাথ কে মনে হল লুম্পেন, রবীন্দ্রনাথবৌদিবাজএবং কাদম্বরী গায়ে পড়া বৌদি বিশেষ। ভয় পাচ্ছিলাম, বৃষ্টির রাতে রবীন্দ্রনাথ যখন সত্যেন্দ্রনাথের জন্মদিন থেকে ফিরে এলেন, তখন একটা বেড সীনই না ঢুকিয়ে দেন পরিচালক। সুনীল গাঙ্গুলিকে ধন্যবাদ তার জন্য (কারণ, ওই অংশটা প্রথম আলো থেকে কাটা ছিল) বাকি চরিত্রদের তো ছেড়েই দিলাম। জ্ঞানদানন্দিনী তো টেলি সিরিয়ালের হিংসুটে জায়ের ভুমিকায় বেশ সাবলীল অভিনয় করলেন।
আসলে রবীন্দ্রনাথ বা তাঁর সমজাতীয় কবি বা দার্শনিকদের মনোজগতে বিচরণ করার জন্য কপি পেস্ট করলে চলেনা। তাঁরা তো আমার আপনার মত সকালে অফিস, সন্ধ্যায় আই পি এল, রাতে সিরিয়াল দেখতে দেখতে রুটি আর আলুচচ্চরি খাওয়া মানুষ নন। তাঁদের ভাবজগতে নারীর অধিষ্ঠান শুধু রমনের জন্য থাকেনা, থাকে শিল্পের জন্য। রবীন্দ্রনাথের সাথে কাদম্বরীর সম্পর্কটা নিছক দেওর বৌদি বা পরম নির্ভরশীল বন্ধুর বাইরেও এমন কিছু ছিল যা জন্ম দিয়ে গেছে বহুবিধ সাহিত্যসুধা। রবীন্দ্রনাথের বিয়ের সাথে সাথে কাদম্বরীর প্রতি তাঁর অবহেলা বা উপেক্ষার কারণও সেটাই যে কবি তখন অন্য এক নারীর মধ্যে তাঁর সেই সৃষ্টির প্রেরণা বা প্রেমের সংজ্ঞা অনুসন্ধানে নিবদ্ধ করেন নিজেকে। কাদম্বরীর প্রতি তাঁর বন্ধুত্ব বা ব্যক্তিগত ভাবাবেগ হ্রাস পায়নি, সৃষ্টির প্রেরণাটুকু হয়ত দিনেকের জন্য পরিবর্তিত হয়েছিলো। এই ট্রানজিশনটাই গোটা ছবির মধ্যে অনুপস্থিত রয়ে গেল। ঠিক যেমন অনুপস্থিত রয়ে গেল জ্যোতিদাদার অনন্যসাধারণ প্রতিভার প্রকাশ। দু একবার ভায়োলিন বাজানো আর উনি এই করেন তাই করেন বলে ডায়লগ দিয়ে সহজে সব কাজ কি সারা যায়, সুমন বাবু? সৃষ্টি এত সহজ নয়।
আর হ্যাঁ, ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা বাড়ির সবার জন্য রোজকার রান্না নিজেরা করত দেখে তাজ্জব হলাম বটে!



No comments: