Friday, May 6, 2016

Post 33: কেরী সাহেবের কিচেন ৩

সায়েবের সাথে আরও দুই সায়েব এসে জুটেচে। কোথা থেকে এল কে জানে, বলল কদিন নাকি থাকবে! এদের সব ইয়ার বন্ধুর দল মাঝে মাঝেই এসে খাওয়া দাওয়া করে যাচ্চে। গনেশ আচে, তাই রক্ষে। নাহলে রাঁধতে রাঁধতেই আমার জীবন বের হয়ে যেত। তাদের কত ফরমায়েশ। জলখাবার এক, দুপুরে এক, রাতে এক। এত রান্না করা যায়! কবে যে যাবে জানিনা!
তবে চুপি চুপি একটা কাজ করেচি। কাউকে বলিনি। গনেশকেও না। বললে যদি সবাইকে বলে দেয় - আমার আর মুক লুকানোর জায়গা থাকবে না!
কাল সায়েবের বন্ধুরা মিলে অনেক রাত অবধি মোচ্ছব কচ্ছিল। সায়েব তো ভালোমানুষ। যীশু ঠাকুরকে পেন্নাম করে সকাল সকাল শুয়ে পড়েন। এদের মোচ্ছব শেষ হলে গনেশ গিয়ে সব পরিষ্কার করে, গেলাস বোতল সব রান্না ঘরে রেখে শুতে গেল। আমি তো রান্না ঘরের একদিকেই শুই। মটকা মেরে পড়েছিলাম। গনেশ চলে যেতে দেকলুম একটা রমের বোতল। বোতলটা পুরো খালি না। খানিকটা রয়ে গেচে। বিদেশী মদ - নিশ্চয়ই খুব ভালো খেতে। চাদ্দিক সুনসান দেখে ছিপি খুলে দিয়েচি গলায় ঢেলে। ও মা! গলা পুরো জ্বলে গেল গা! এসব খায় কি করে কি জানি বাপু! তবে গন্দটা কিন্তু খারাপ না। শুয়ে শুয়ে মনে হল রান্নায় যদি একটু দেওয়া যায় কেমন হয়? মেমসাহেব রান্নায় বিলিতি গন্দ পেয়ে নিশ্চয়ই বেজায় খুশি হবেন।
সকালে মুর্গী আনল গনেশ। কেটে কুটে ছাড়িয়ে বলল, অ ফুলি দিদি, এ কি ঝোল রাঁন্দবা?
- যাই রাঁধি, তাতে তোর কিরে হতভাগা?
- আমার আর কী! তবে সায়েবের বন্ধু সায়েব বলছিল, ভেজে দিতে - মদের চাট করবে রাতের বেলা।
মুখ ফসকে বেরিয়ে যাচ্চিল - ওই তো খেতে, তার জন্যে আবার এত কি! ভাগ্যিস সামলে নিয়েচি। গম্ভীর মুক করে বললুম, ঠিক আচে, তুই যা দেকি!
গনেশ চলে যেতে এদিক ওদিক দেখে বাসনের পিছন থেকে রমের বোতলটা বের করলুম। মাংসর ওপর দিয়ে ঢেলে দিলাম খানিকটা। অল্প নুন, মরিচ ভালো করে মাখিয়ে চাপা দিয়ে রেখে ভাবলুম পেঁয়াজ, রসুন গুলো কেটে নিই। পাশ ফিরতে পারিনি, গনেশ এসে হাজির।
- বলি অ ফুলি দিদি। ওটা কিসের গন্দ?
- কোতায়? কিসের গন্দ? মাংসটা জারাচ্চি তো। গন্দ আবার কিসের?
- না। এ তো... তারপর গলা নামিয়ে এনে বলে, তুমি মদ খাচ্চ?
- মরি মরি! আমি মদ খেতে যাব কেন র‍্যা? হতভাগা ছেলে! তুই দিনমানে খাচ্চিস মনে হচ্চে! মারব এক চড়। ভাগ এখান থেকে।
গনেশ একটু সন্দেহ মুখে নিয়ে চলে গেল। আমি তাড়াতাড়ি করে পেঁয়াজ, রসুন, আদা বেটে নিলাম।
তারপর যেমন মাংস বানাই। মাংসটা বসিয়ে দিয়ে চাপা দিয়েছি, সেদ্দ হবে বলে, আবার গনেশ এল।
- আবার কী চাই?
- মাংসটার কিন্তু বেশ গন্দ বেরিয়েচে। আমার জন্য দু'টুকরো রেখো কিন্তু।
- হ্যাঁ রে, রাখব। আর ওই সায়েবদের বলিস, কয়েক টুকরো সরিয়ে রেকেচি। রাতে ভেজে দেব। যা নেয়ে আয়। খেয়ে নিবি।
গনেশ চলে যায়। মাংসটা হয়ে এসেছে। নামানোর আগে আর একটু রাম ছড়িয়ে দিয়ে একটু বসিয়ে নামিয়ে নিলাম। বেশ খাসা গন্দ ছেড়েচে কিন্তু!
এই পেথমবার মেমসাহেবের মুকে হাসি দেকলাম। ইংরিজিতে খ্যাটম্যাট করে কিসব বলল। সবাই মাংস খেয়ে খুব খুশি।
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বোতলটা বের করে একটু জল মিশিয়ে আর এক ঢোক খেয়ে দেকলুম। খুব একটা খারাপ লাগলনি আজ!

No comments: