আকাশকলম।।
১।।
অমিলের মধ্যে একটা আনন্দ আছে। সারাদিনের
লাভ-লোকসান, হওয়া – না হওয়া কাজের হিসাবের মধ্যের ওই অমিলটুকু। এক একদিন সকালে উঠে
আলসের ধার ঘেঁসে পিছলে পড়ে থাকা রোদ্দুরটুকু সেই অমিলের যেন জোগানদার। মা-মা গন্ধ
মাখা শাড়ি, বাবার শরীরের অদ্ভুত গন্ধ মাখা জামা, পাজামা ঝুলে থাকে আলনার কোণ ঘেঁসে
দুয়োরাণীর মত। সেসব থেকে অনেকখানি দূরে বসে সঙ্গী করি আকাশটাকে। ঝুলে থাকা
কালপুরুষের দল হাতে তীর, ধনুক নিয়ে নিশানা করে থাকে আমার দিকে, তোমার দিকে। নিজের
প্রতিটা দিন, রাত্রিকে পিচ ওঠা ছায়াময় রাস্তার মধ্যে দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে যেতে
খেয়াল করি ঘরের কোণে মেঘের পরে মেঘ জমে করুণাঘণ হয়ে থাকা আমার আকাশ গুলো। একটু
ছুয়ে দিতে মন চায়। পড়ুক না বৃষ্টি। ডুবিয়ে দেবে এক পশলায় আমার লেখার কাগজ-কলম।
দেয়ালের আঁকি-বুঁকি গুলো বোধগম্য হয়। বার বার মুছে নতুন করে রঙ লেপে দিই। সেই
দু’একটা রঙের ছিটেতে কলম ডুবিয়ে লিখতে ইচ্ছে হল আমার আর আমার ওই কালপুরুষ ঝুলে
থাকা নিঃঝুম আকাশটার গল্পকথা। সেই মনে শুরু করলাম অসম্পুর্ণ আকাশকলম।
No comments:
Post a Comment