আকাশকলম
২।।
আমাদের বাড়ির সামনে একটা টগরগাছ ছিল। ‘ছিল’
বলছি এইকারণেই যে সেই বাড়িটা এখন আছে, সেখানে শুধু আমি বা ওই টগরগাছটা নেই। ওই
বিশাল বড় ঝুপসি গাছটা জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত বাগানের এক কোণে। সামনে তিনটে লম্বা
লম্বা সুপুরি গাছের তিনটে সমান্তরাল ছায়ায় ঢাকা পড়ত তার চোখমুখ। শীতের সকালগুলোতে
ওই গাছটার পাশে একটা টুলে বসে দাদান রোদ পোয়াত। ঘাসগালিচার আনাচে কানাচে পড়ে থাকা
টগর ফুলগুলোর জন্য কেন জানিনা খুব মন খারাপ লাগে। নীল হাফপ্যান্ট, আর সাদা জামা
পড়ে ইস্কুল যাওয়ার সময় দাদানকে খুব জোরে বলি, যাচ্ছি! –যাচ্ছি বলেনা, বল আসছি,
দাদান হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে। মাথা নেড়ে বলি ঠিক আছে। গেট থেকে বেড়িয়ে যেতে
যেতে হাত নাড়ি ওই টগর গাছের দিকে। গাছটা এক নিঃঝুম চোখে তাকিয়ে দেখে আমার চলে
যাওয়া। ইস্কুল থেকে ফেরার সময় বাড়িটার বড় ছায়াটার তলায় চাপা পড়ে থাকত টগর গাছটা।
ভাত খেয়ে টগর গাছের তলায় বসে কুল খাই। মা বেশ বিটনুন দিয়ে মেখে দেয় লাল লাল
টোপাকুল। দানাগুলো ছুঁড়ে মারি টগর গাছটার গায়ে, একটা একটা করে। ও কিছু বলেনা। মাঝে
মাঝে টুপটাপ ঝরে পড়ে কয়েকটা ফুল। একটা প্লাসটিকের প্যাকেটে জমা করি। কৃষ্ণ ঠাকুরের
একটা ঘুণে কাটা ফোটো খুঁজে পেয়েছিলাম ওই লালঘরে রাখা পুরানো সিন্দুকটা থেকে
কোনোদিন। টগরফুল গুলো ওর জন্যেই রাখি। পুজো করব। সোফার কোণে রেখে টগর ফুল দিয়ে
সাজাব আমার ঘুণে কাটা আধখানা কৃষ্ণঠাকুরকে।
No comments:
Post a Comment